এ,কে,এম বেলাল উদ্দিন, চকরিয়া
কক্সবাজারের চকরিয়ায় যুবদল নেতা মো. জিসান অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি নোহা গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন—চকরিয়ার দক্ষিণ লোটনী এলাকার আনোয়ার হোসেন প্রকাশ কাল্লু ড্রাইভার এবং রিংভং ছগিরশাহ কাটা এলাকার জিসাত মিয়া প্রকাশ শওকত ড্রাইভার।
চকরিয়া থানা পুলিশ জানায়, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমানের দিকনির্দেশনায়, চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আবদুল আজিজের তত্ত্বাবধানে এবং চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৩টার মধ্যে কাকারা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজ কাকারা এলাকার ছাবের সওদাগরের দোকানের সামনে থেকে কয়েকজন ব্যক্তি একটি সাদা রঙের নোহা গাড়িতে করে যুবদল নেতা জিসানকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
অপহরণের খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারে চকরিয়া থানা পুলিশ। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জিসানকে চকরিয়া পৌরসভার সবুজবাগ এলাকার কবির টাওয়ারে আটকে রাখা হয়েছে। পুলিশ দ্রুত সেখানে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন ফ্লোরের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে। তবে সেখানে জিসানের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এরই মধ্যে রাত আনুমানিক ৩টার দিকে মালুমঘাট হাইওয়ে থানা পুলিশের মাধ্যমে মেধাকচ্ছপিয়া এলাকায় সড়কের পাশে এক ব্যক্তির পড়ে থাকার খবর পায় চকরিয়া থানা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। স্বজনরা মরদেহটি যুবদল নেতা জিসানের বলে শনাক্ত করেন।
পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় জিসানের ভাই কাইচার হামিদ বাদী হয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর চকরিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় রেজিয়া সুলতানা, নাজিম উদ্দিন, বেগম নাজিম উদ্দিন, মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ জাকারিয়া, মিনহাজ উদ্দিন ও একে তারেকসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। মামলার এফআইআর নম্বর ৪৪, জিআর নম্বর ৪১৪। এতে দণ্ডবিধির ৩৪১/৩৬৪/৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে আনোয়ার হোসেন প্রকাশ কাল্লু ড্রাইভারকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে তার নিজ বাড়ি লোটনী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আনোয়ার হোসেন হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও কিলিং মিশনে অংশগ্রহণের বিষয়ে তথ্য দেন। পরে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তার দেওয়া তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ২ অক্টোবর ভোরে রিংভং এলাকার নিজ বাড়ি থেকে জিসাত মিয়া প্রকাশ শওকত ড্রাইভারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, জিসাতের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সিলভার রঙের একটি নোহা গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর চট্টমেট্রো-চ-১১-৫৯৬৯।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার দুই আসামির কাছ থেকে পাওয়া তথ্য, আলামত ও জবানবন্দির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও অর্থায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এজাহারনামীয় আসামি রেজিয়া সুলতানার সঙ্গে জিসানের ব্যবসায়িক লেনদেন ও সম্পর্ককে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। পরবর্তীতে রেজিয়ার ভাই মিজানসহ কয়েকজনের সঙ্গে জিসানের বিরোধ ও হুমকির ঘটনা ঘটে। এরপর তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশের দাবি, পরিকল্পনা অনুযায়ী আনোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা একটি অপহরণকারী ও হত্যাকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে ২৭ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে কাকারা এলাকা থেকে জিসানকে অপহরণ করে গুরুতরভাবে আহত করার পর হত্যা করা হয়। এরপর তার মরদেহ খুটাখালী ইউনিয়নের মেধাকচ্ছপিয়া এলাকায় মহাসড়কের পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
চকরিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার এজাহারনামীয়সহ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও কিলিং মিশনে অংশগ্রহণকারীদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত চলছে।
