খাগড়াছড়ির রামগড়ে শারদীয় দুর্গাপূজা ও প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে দুটি পূজা মণ্ডপে আর্থিক সহায়তা এবং ৫৯টি বৌদ্ধ মন্দিরে সরকারি অনুদানের চাল বিতরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে শিশু খাদ্য ও কৃষকদের মধ্যে গো-খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা ১টার দিকে রামগড় কেন্দ্রীয় শ্রীশ্রী দক্ষিণেশ্বরী কালীবাড়ি পূজা মণ্ডপে গিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া।
এ সময় তিনি রামগড়ের শ্রীশ্রী দক্ষিণেশ্বরী কালীবাড়ি ও বাসন্তী মন্দির পূজা মণ্ডপের জন্য পৃথকভাবে ৪০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেন। পাশাপাশি আসন্ন প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে উপজেলার ৫৯টি বৌদ্ধ মন্দিরের প্রতিনিধিদের হাতে সরকারি বরাদ্দের চালের ডিও তুলে দেওয়া হয়। প্রতিটি বৌদ্ধ মন্দিরের জন্য বরাদ্দ ছিল ৬০০ কেজি করে চাল। এর আগে একই দিন উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের আওতায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে মানবিক সহায়তা বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে ২০টি পরিবারের জন্য শিশু খাদ্য এবং ৩০ জন কৃষকের মধ্যে গো-খাদ্য বিতরণ করা হয়।
প্রতিটি শিশু খাদ্যের প্যাকেটে ছিল ২৫০ গ্রাম গুঁড়া দুধ, এক কেজি সুজি, এক কেজি সাগু, এক কেজি চিনি, এক প্যাকেট বড় আকারের বিস্কুট, ১০০ গ্রাম খেজুর, ৫০ গ্রাম বাদাম এবং ৫০টি পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট। এ ছাড়া কৃষকদের মধ্যে জনপ্রতি ২৫ কেজি করে গো-খাদ্য বিতরণ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীমের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসন জানায়, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে এসব মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
