আব্দুল হান্নান হীরা, বিশেষ প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী এলাকায় মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন পরিচালনা করায় প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি ও সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ী মোঃ আনোয়ার হোসেন। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পূর্বের হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদারকি এবং মাদক ব্যবসার অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) মাননীয় পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তিনি।
মোঃ আনোয়ার হোসেন পাহাড়তলী সিডিএ মার্কেটের একজন ব্যবসায়ী। তিনি পাহাড়তলী থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি পাহাড়তলী এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধ এবং যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম ও শান্তিপূর্ণ সামাজিক আন্দোলন চালিয়ে আসছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করেছেন।
লিখিত আবেদনে আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, তাঁর মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে—এমন কয়েকজনের বিরোধিতা ও হুমকির মুখে পড়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, অতীতে কয়েকবার তাঁর ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পাহাড়তলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
আবেদনে তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন বাধা ও শারীরিক ক্ষতির অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও মাদকবিরোধী সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে নিজের জীবন নিয়ে গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন তিনি। তাঁর আশঙ্কা, মাদকবিরোধী কার্যক্রম বন্ধ করতে না পেরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যেকোনো সময় তাঁর ওপর আবারও প্রাণঘাতী হামলা চালাতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে গত ১৬ অক্টোবর পাহাড়তলী থানায় উপস্থিত হয়ে নিজের নিরাপত্তার বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে আবেদনে জানান তিনি। জিডি নম্বর ৮৭৬।
সিএমপি কমিশনারের কাছে করা আবেদনে আনোয়ার হোসেন জিডিটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত, নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পূর্বের হামলার ঘটনায় বিচারাধীন মামলার আইনগত কার্যক্রম যথাযথভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
একই সঙ্গে পাহাড়তলী এলাকায় মাদক ব্যবসার অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়ারও আবেদন করেছেন।
আবেদনে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা নয়; বরং নিজের জীবনের নিরাপত্তা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সমাজকে মাদকের অভিশাপ থেকে রক্ষার স্বার্থেই তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে যুক্ত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন এই ব্যবসায়ী।
তবে আবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্ত ব্যক্তি বা পুলিশের বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাই ও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণ করা প্রয়োজন
