মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞায় চরম সংকটে পড়েছে চকরিয়ার বিবিরখীল পাড়ার জলদাশ পরিবার।এখনাকার গরীব জেলে পরিবারগুলো অধিকাংশেরই নেই আয়ের উৎস, বাড়ছে ঋণের চাপ।মাছ ধরাকে কেন্দ্র করেই যাদের জীবন-জীবিকা, সেই জলদাশ সম্প্রদায়ের জেলেদের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার নতুন পহরচাঁদা ইউনিয়নের বিবিরখীল পাড়ায় বসবাসরত জলদাশ সম্প্রদায়ের শতভাগ পরিবারই মৎস্য আহরণের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার সময় বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা না থাকায় পরিবারগুলো পড়েছে চরম আর্থিক সংকটে। সরকারি-বেসরকারি সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাদের। বিস্তারিত জানাচ্ছেন বিজন কুমার বিশ্বাস।
রিপোর্ট: কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার নতুন পহরচাঁদা ইউনিয়নের বিবিরখীল পাড়া। এখানে বসবাসরত জলদাশ সম্প্রদায়ের অধিকাংশ মানুষের জীবিকা মাছ ধরা। নদী-সাগরে মাছ ধরে যা আয় হয়, তা দিয়েই চলে পরিবারের ভরণপোষণ। কিন্তু মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা চলাকালে বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় এখন দিশেহারা পরিবারগুলো।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে তারা কোনো সরকারি কিংবা বেসরকারি সহযোগিতা পাননি। অধিকাংশ পরিবারের নেই নিয়মিত আয়ের উৎস। তার ওপর রয়েছে বিভিন্ন এনজিও ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কিস্তির চাপ। একদিকে পরিবারের খাবারের জোগান, অন্যদিকে ঋণের কিস্তি—সব মিলিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।
শুধু আর্থিক সংকটই নয়, আবাসন ও স্যানিটেশন ব্যবস্থারও বেহাল চিত্র রয়েছে এলাকাটিতে। অনেক পরিবারের বসবাসের ঘর জরাজীর্ণ। নেই স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার। এমনকি কোথাও কোথাও চলাচলের উপযুক্ত পথও নেই। সব মিলিয়ে মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকার অভিযোগ রয়েছে এসব পরিবারের।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধির বক্তব্য: এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সমাপনী: মৎস্য আহরণে নিষেধাজ্ঞার সময় প্রকৃত জেলেদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান, খাদ্যসহায়তা এবং সহজ শর্তে আর্থিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি বিবিরখীল পাড়ার জলদাশ পরিবারগুলোর আবাসন, স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার ও চলাচলের পথের সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
এখন প্রশ্ন—মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল এই পরিবারগুলোর দুর্দিনে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেবে কে?
