ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে ৯ জুলাই (বৃহস্পতিবার) রায় ঘোষণা করবেন হাইকোর্ট। কি রায় হতে যাচ্ছে এনিয়ে উপজেলা জুড়ে চলছে আলচোনা ও জল্পনা কল্পনা। গত ২ জুলাই বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ সংক্রান্ত রুলের শুনানি শেষ হওয়ার পর রায়ের এই দিন নির্ধারণ করা হয়। আদালতের এই চূড়ান্ত রায়কে সামনে রেখে ফটিকছড়ির সর্বস্তরের জনগণ, দলীয় নেতাকর্মী এবং দেশবাসীর কাছে আন্তরিক দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন সরোয়ার আলমগীর।
আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফটিকছড়ি আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়াই করেন সরোয়ার আলমগীর। নির্বাচনে তিনি ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন, যেখানে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ৬২ হাজার ১৬০ ভোট। তবে তাঁর মনোনয়নপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে জামায়াত প্রার্থীর করা আপিলের কারণে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ নির্বাচনের ফলাফলের অফিশিয়াল গেজেট প্রকাশ ও শপথ গ্রহণের ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ দেন। পরবর্তীতে আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী হাইকোর্ট বেঞ্চে এই রুল শুনানি সম্পন্ন হয়।
চূড়ান্ত রায়ের আগের দিন সরোয়ার আলমগীর বলেন, “ফটিকছড়ির সাধারণ মানুষ ভোটের মাধ্যমে আমাকে যে রায় দিয়েছেন, তা জনগণের আমানত। আইনি লড়াইয়ে আমরা সত্যের পক্ষে লড়েছি এবং আশা করি আগামীকাল উচ্চ আদালত থেকে আমরা ন্যায়বিচার পাবো। আমি ফটিকছড়ির আপামর জনসাধারণসহ দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই, যেন আইনি জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত আপনাদের সেবায় পুরোদমে আত্মনিয়োগ করতে পারি।” আগামীকালকের এই রায়ের দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছেন ফটিকছড়ির সাধারণ ভোটার ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তারা আশা করছেন, আদালতের রায়ের মাধ্যমে সব আইনি বাধা কেটে যাবে এবং তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি দ্রুত শপথ নিয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ শুরু করতে পারবেন। এদিকে উপজেলার বিভিন্ন মসজিদে মসজিদে বিএনপি নেতা কর্মীদের উদ্যেগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
