চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে এক দুবাই প্রবাসীর বাড়িতে ব্যপক হামলা চালিয়েছে এক দল দুর্বৃত্ত। তারা ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। বুধবার (১৫ জুলাই) ভোররাতে সমিতিরহাট ইউনিয়নের ছাদেকনগর গ্রামের মোয়াজ্জেম কাজীর বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা পেতে ঘরের ভেতর অবরুদ্ধ নারীরা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’-এ কল করলে ফটিকছড়ি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি সুসংগঠিত সন্ত্রাসী দল প্রবাসী রিদুয়ানের বাড়িতে চড়াও হয়। হামলাকারীদের অধিকাংশেরই মাথায় হেলমেট পরা ছিল এবং কয়েকজনের মুখ খোলা ছিল। তারা বাড়িতে এসেই চারপাশের অন্য সব ঘর বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে দেয়, যাতে প্রতিবেশীরা সহায়তার জন্য এগিয়ে আসতে না পারেন। এরপর সন্ত্রাসীরা আধুনিক গ্রাইন্ডার মেশিন দিয়ে প্রবাসী রিদুয়ানের ঘরের দরজা ও জানালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। ঘরে থাকা প্রবাসীর মা রেনু আকতার এবং তার স্ত্রী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সন্ত্রাসীরা ধারালো ছুরি উঁচিয়ে তাদের ওপর হামলার চেষ্টা করে এবং তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। প্রাণভয়ে প্রবাসীর মা ও স্ত্রী পাশের একটি কক্ষে আশ্রয় নিয়ে নিজেদের রক্ষা করেন। সেখান থেকেই তারা কৌশলে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে পুলিশের সহায়তা চান।
ভুক্তভোগী প্রবাসীর মা রেনু আকতার বলেন, “সন্ত্রাসীরা এসেই আমাদের মোবাইল কেড়ে নেয় এবং আশেপাশের সব ঘরে তালা মেরে আমাদের অবরুদ্ধ করে ফেলে। তারা আমাদের ছুরি দিয়ে আঘাত করতে আসায় আমরা পাশের রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিই। পরে পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করেছে। তারা ঘরের আলমারি ভেঙে নগদ টাকা, স্বর্ণ ও দামী জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে গেছে। ঘরের ইটের দেয়ালের দু’পাশে ভেঙে ফেলেছে।”
এদিকে এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি এই নজিরবিহীন হামলার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। ফটিকছড়ি থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) রবিউল আলম খান জানান, “ভোররাতে ৯৯৯ থেকে তথ্য পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধ নারীদের উদ্ধার করে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
