back to top
Wednesday, July 22, 2026

বাঁশখালীতে পানি নামার সঙ্গে বাড়ছে সাপের আতঙ্ক, হাসপাতালে ২২ জনের চিকিৎসা

তৌহিদ-উল বারী,কন্ট্রিবিউটর | ১৮ জুলাই, ২০২৬ ১০:০৬

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ভয়াবহ বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করলেও নতুন করে দেখা দিয়েছে সাপের আতঙ্ক। বানের পানির সঙ্গে ভেসে আসা বিভিন্ন প্রজাতির সাপ এখন বসতঘর, রান্নাঘর, উঠান, গোয়ালঘর ও স্যাঁতসেঁতে স্থানে আশ্রয় নেওয়ায় দিন-রাত উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে রাতের বেলায় আতঙ্ক আরও বেড়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বন্যায় উপজেলার প্রায় ৪৫ হাজার বসতঘরে পানি প্রবেশ করে। এতে পাঁচ হাজারের বেশি মাটির ঘর ধসে যায় এবং কয়েক হাজার টিন ও ছনের তৈরি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পানি নেমে গেলেও অধিকাংশ এলাকায় এখনও কাদা, আবর্জনা ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ বিরাজ করছে। এসব স্থানেই আশ্রয় নিচ্ছে বিষধর ও নির্বিষ বিভিন্ন প্রজাতির সাপ। ফলে ঘরবাড়ি পরিষ্কার করতে গিয়ে কিংবা স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরতে গিয়ে অনেকেই সাপের কামড়ের শিকার হচ্ছেন।

বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, বন্যা ও বন্যা-পরবর্তী সময়ে আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল ১১টা পর্যন্ত সাপে কাটা ২২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। চিকিৎসা শেষে সবাই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সাইফুল ইসলাম আমিন বলেন, এ পর্যন্ত আমাদের হাসপাতালে ২২ জন সাপে কাটা রোগী ভর্তি হয়েছেন। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, তাদের কাউকেই বিষধর সাপ কামড় দেয়নি। তাই কোনো রোগীকেই অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের প্রয়োজন হয়নি। চিকিৎসা শেষে সবাই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজমা আক্তার বলেন, সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো রোগীর ক্ষেত্রে অ্যান্টিভেনম ব্যবহারের প্রয়োজন হয়নি। তবে সাপের কামড়ের ঘটনায় ঝাড়ফুঁক বা কুসংস্কারের আশ্রয় না নিয়ে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে যেতে হবে। সময়মতো চিকিৎসা পেলে অধিকাংশ রোগীকেই সুস্থ করা সম্ভব।

তিনি আরও জানান, বন্যা-পরবর্তী সময়ে পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও খাবার স্যালাইনের পর্যাপ্ত মজুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল টিম মাঠপর্যায়ে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি ছনুয়া ও কাথারিয়া ইউনিয়নে পরিচালিত দুটি মেডিকেল ক্যাম্পে প্রায় ২ হাজার ২০০ মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে।

এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের ঘরে প্রবেশের আগে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে। জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করার সময় লম্বা লাঠি ব্যবহার, রাতে টর্চলাইট সঙ্গে রাখা এবং শিশুদের একা চলাফেরা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাপের কামড়ের ঘটনা ঘটলে কোনো ধরনের বিলম্ব না করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ