back to top
Saturday, September 5, 2026

দর্জি আজম হত্যা মামলার প্রধান আসামি দিদার ঢাকায় গ্রেপ্তার, হত্যায় ব্যবহৃত  অস্ত্র উদ্ধার

হাটহাজারীতে মেয়ের সামনেই বাবা খুন

গাজী জয়নাল আবেদীন, রাউজান | ০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:৫৪

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ১৩ বছর বয়সী কিশোরী মেয়ের সামনে নৃশংসভাবে খুন হয়েছিল নুরুল আজিম ওরফে দর্জি আজম। এই ঘটনার মূল হোতা ও মামলার প্রধান আসামী দিদারুল আলম (৪৭) দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি দেশীয় এলজি ও একটি বড় ছোরা উদ্ধার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম।
তিনি জানান, হাটহাজারী মডেল থানার একটি বিশেষ আভিযানিক দল দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্য বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধানের মাধ্যমে পলাতক আসামির অবস্থান শনাক্ত করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২ আগস্ট রাত আনুমানিক ১০টায় ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানার গাদাবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এক নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি দিদারুল আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত দিদারুল আলম হাটহাজারী উপজেলার পূর্ব দেওয়াননগর এলাকার হামিদ আলী বাড়ির মৃত আবদুল মোনাফের ছেলে।
নিহত নুরুল আজিম হাটহাজারী উপজেলার মেখল ইউনিয়নের পশ্চিম মেখল গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খলিফাপাড়ার আজীম উল্লাহ কাজীর বাড়ির মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় একজন দর্জি ছিলেন।
মামলার এজহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুলাই সকাল ৭টার দিকে নুরুল আজিম তার ১৩ বছর বয়সী মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকাকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির পাশের বিলে মাছ ধরতে যান। সকাল প্রায় ৮টার দিকে পূর্ব বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দিদারুল আলম ও মোহাম্মদ মোরশেদ আকিল ওরফে আক্কেল সেখানে গিয়ে তার ওপর হামলা চালান। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে হামলাকারীরা ধাওয়া করে বিলের মধ্যে জনৈক জয়নালের জমিতে তাকে ধরে ফেলে। এ সময় দিদারুল আলম ধারালো রামদা দিয়ে তার মাথায় এলোপাতাড়ি কোপ দেন। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে মোরশেদ তাকে চেপে ধরেন। পরে তার দুই পায়ের হাঁটুর পেছনেও একাধিক কোপ দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলেই নুরুল আজিমের মৃত্যু হয়। পুরো ঘটনাটি তার মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা প্রত্যক্ষ করে পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়।
ঘটনার দিন রাতে নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী রাজু আক্তার বাদী হয়ে হাটহাজারী মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে এজাহারভুক্ত আসামি মোহাম্মদ মোরশেদ প্রকাশ আকিল এবং নিহতের বড় ভাই মো. আলী আকবরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী দিদারুল আলম গ্রেপ্তার এড়াতে চট্টগ্রামের বাকলিয়া ও রাউজান, খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি, সিলেটের গোয়াইনঘাট এবং সর্বশেষ ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকায় আত্মগোপন করেন। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর অবশেষে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দিদারুল আলম পুলিশকে জানান, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে নুরুল আজিমের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। সেই বিরোধ থেকেই সহযোগী আকিলকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটান। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিজ বাড়ি-সংলগ্ন গোয়ালঘরে লুকিয়ে রাখা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি দেশীয় এলজি ও একটি বড় ছোরা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, দিদারুল আলমের বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ছয়টি সাজা এবং একাধিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের অপেক্ষায় ছিল। অপরদিকে তার সহযোগী মোরশেদ প্রকাশ আকিলের বিরুদ্ধে চারটি মামলা এবং এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত একটি পরোয়ানা রয়েছে।
প্রধান আসামি গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে নিহত নুরুল আজিমের বৃদ্ধ মা, স্ত্রী রাজু আক্তার এবং ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা হাটহাজারী মডেল থানায় যান। তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ জড়িত আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার হওয়ায় পুলিশকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি দ্রুত বিচার কার্যকর এবং খুনিদের ফাঁসি দাবী করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হাটহাজারী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রূপন নাথ জানান, গ্রেপ্তারকৃত প্রধান আসামি দিদারুল আলমকে সোমবার দুপুরে তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ