চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলাজুড়ে ভেজাল খাদ্যপণ্য ও নকল ওষুধের অবাধ বিস্তারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, গ্রামাঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় প্রকাশ্যে নিম্নমানের ও ভেজাল খাদ্যসামগ্রী এবং অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রি হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অভিযান সীমাবদ্ধ রয়েছে কেবল পৌর সদর এলাকায়- এমন অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের।
স্থানীয়দের দাবি, বাজার ও দোকানপাটে মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হলেও তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে পৌর সদর এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকে। উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নের বাজারগুলোতে তদারকি তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজারে মেয়াদোত্তীর্ণ বিস্কুট, কোমল পানীয়, মসলা, মিষ্টিজাত পণ্য, বেকারি সামগ্রী, ভোজ্যতেলসহ নানা খাদ্যপণ্য প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে।
একই সঙ্গে কিছু ফার্মেসিতে নকল ও নিম্নমানের ওষুধ বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। এসব পণ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করলেও নিয়মিত তদারকির অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা পার পেয়ে যাচ্ছে বলে দাবি তাদের। দীর্ঘদিন ধরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর যৌথ অভিযান খুব কমই পরিচালিত হয়। ফলে প্রত্যন্ত এলাকার বাজারগুলো কার্যত নজরদারির বাইরে থেকে যাচ্ছে। সচেতন জনসাধারণ বলছেন, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় শুধু পৌর এলাকায় নয়, উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও বাজারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, ভেজাল ও নকল পণ্য শনাক্তকরণ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
