চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলেপাসের হারে বিদ্যালয়ের তুলনায় মাদরাসা এগিয়ে রয়েছে। তবে জিপিএ-৫ অর্জনে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে।
এবার ফটিকছড়িতে এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়গুলোর পাসের হার ৫৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ। বিপরীতে দাখিল পরীক্ষায় মাদরাসাগুলোর পাসের হার ৬৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ এসএসসির তুলনায় দাখিলে পাসের হার প্রায় ৯ শতাংশ বেশি। এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২৪ জন।
দাখিলে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত মাত্র ২৬ জন।
এসএসসিতে সর্বোচ্চ পাসের হারে বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে উপজেলার দক্ষিণ প্রান্তের আব্দুল্লাহপুর উচ্চ বিদ্যালয়। ২৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২২ জন পাস করেছে। পাসের হার ৯৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন।
জিপিএ -৫ এগিয়ে আছে ফটিকছড়ি বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। এ বিদ্যালয়ে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ১৮ জন।
নারায়ণহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এবার তিনজন পরীক্ষার্থী এসএসসিতে অংশ নিলেও কেউ পাস করেনি। গতবারও বিদ্যালয়টির কোনো পরীক্ষার্থী পাস করেনি।
দাখিলে সর্বোচ্চ পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে মাদ্রসা-এ-গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী।১৯ জন পরিক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ জন পাস করে। জিপিএ- ৫ অর্জন করে একজন। পাসের হার ৮৯.৪৭।
মাদরাসাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ছয়জন জিপিএ-৫ পেয়েছে লেলাংয়ের বন্দেরাজা-এ মহিলা দাখিল মাদরাসা থেকে। এ মাদ্রাসায় ২৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৪ জন পাস করেছে।
পাসের হারে পিছিয়ে আছে বখতপুর ফারুক এ আজম দাখিল মাদ্রাসা। এ মাদ্রাসায় ২৩জন পরিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করে মাত্র ৭ জন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের দেওয়া ফলাফল শিট বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য,ফটিকছড়ির ৬০টি বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় ৪ হাজার ৪ শত ৩৩জন শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। পাস করে ২হাজার ৫ শত ৫৩ জন শিক্ষার্থী।
সামগ্রিকভাবে পাসের হার ৫৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় ৪৩ শতাংশই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
মাদ্রাসায় পরিক্ষার্থী সংখ্যা ১হাজর ৬শত ৬৬জন। পাস করে ১ হাজর১ শত ৭জন।
সার্বিক ফলাফলে বিদ্যালয়গুলোর পাসের হার তুলনামূলক কম হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষার মান ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়ে। শিক্ষা অফিস,পরিচালনা কমিটি, শিক্ষকমন্ডলী ও অভিভাকবৃন্দের আরো বেশি সম্মিলিত তদারকি প্রয়োজন বলে মনে করেন সচেতন মহল।
