back to top
Friday, June 5, 2026

চট্টগ্রামে বিস্ফোরণ : ৪ জন শতভাগ দগ্ধ, পাঠানো হচ্ছে ঢাকায়

বিস্ফোরণ নিয়ে ধোঁয়াশা

নিজস্ব প্রতিবেতক | ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৭:২৬

চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর এলাকায় একটি বাসায় বিস্ফোরণে শিশুসহ নয়জন দগ্ধ হয়েছেন। আজ ভোরে হালিশহর এইচ ব্লকের হালিমা মঞ্জিল নামের একটি ভবনের তৃতীয় তলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। চিকিৎসক জানিয়েছেন, দগ্ধ সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক। এরমধ্যে চারজন ৮০-১০০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছেন। সবাইকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

দগ্ধরা হলেন- উম্মে আয়ন (১০), মো. শাওন (১৭), সাখাওয়াত হোসেন (৪৬), মো. আনাস (৭), মো. শিপন (৩২), আয়েশা আক্তার (৪), মো. সুমন (৪০), রানী আক্তার (৪০) ও পাখি আক্তার (৩৫)। তারা সবাই একই পরিবারের। তিন ভাই ও স্ত্রী-সন্তানরা একসঙ্গে হালিশহর এলাকায় ভাড়া বসায় থাকেন। এরমধ্যে সাখাওয়াত ও তার স্ত্রী শতভাগ দগ্ধ হয়েছেন। শিপন ৮০ শতাংশ ও তার স্ত্রী রানী শতভাগ দগ্ধ হয়েছেন। বাকিরা সবাই ২৫-৪৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছেন।

দগ্ধ সাখাওয়াতের ফুফাতো ভাই মোহাম্মদ জামশেদ বলেন, সেহরি খাওয়ার পর লিফট থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আমার ফুফাতো ভাইদের বাসা ছিল লিফটের সঙ্গে লাগোয়া। লিফট বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে আগুন দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে যায়। এতে পরিবারের সবাই দগ্ধ হন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। চট্টগ্রাম মেডিকেল আইসিইউ বেড নেই। তাই সবাইকে ঢাকা নিয়ে যাবো। চারটি এম্বুলেন্সের ব্যবস্থা হয়েছে।

অশ্রুসিক্ত নয়নে জামশেদ বলেন, আমার ফুফাতো ভাইদের পুরো পরিবার শেষ। বড় ভাই সাখাওয়াত ও ছোট ভাই শিপন গাড়ির গ্যারেজের দোকান আছে। মেঝো ভাই সুমন পর্তুগাল থাকতো। গত সপ্তাহে দেশে আসছে। তারও আজ করুণ পরিণতি।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, ভোর সোয়া ৪টার দিকে ওই ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। খবর পেয়ে হালিশহর ফায়ার স্টেশনের তিনটি গাড়ি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় সোয়া এক ঘণ্টার চেষ্টায় ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

হালিশহর ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে। বিস্ফোরণের পর দগ্ধদের উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিস্ফোরণের ওই তলার দুটি ফ্ল্যাটের দেয়াল ও জানালার কাচ ভেঙে গেছে।

চমেক হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের রেজিস্ট্রার ডা. মো. আসফাকুল আসিফ জানান, আহত সবারই শ্বাসনালি পুড়ে গেছে। তাদের শরীরের ২৫ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত দগ্ধ হয়েছে। চিকিৎসাধীন সবার অবস্থাই আশঙ্কাজনক। আমাদের  এখানে ডেডিকেটেড আইসিইউ সেবা নেই। এজন্য সবাইকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ