“তারুণ্যের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (১২ জুলাই) চকরিয়া উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে সোশ্যাল মার্কেটিং কোম্পানি (এসএমসি)-এর কারিগরি সহযোগিতা ও অর্থায়নে পরিচালিত কমিউনিটি মোবিলাইজেশন প্রোগ্রামের আওতায় সীমান্তিক কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে এবং উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের আয়োজনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তাপস দত্ত। এছাড়াও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, সীমান্তিক কক্সবাজার জেলার টিম লিডার, উপজেলা সুপারভাইজার, কমিউনিটি মোবিলাইজার এবং মা স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রের প্যারামেডিক প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তরুণদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অধিকার নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে তাদের জন্য নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও সুযোগ-সমৃদ্ধ পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।

এ বছর জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) ঘোষিত বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য ছিল “Realizing the Hopes and Aspirations of Young People: Today and For the Future”, যার বাংলা প্রতিপাদ্য “তরুণদের আশা ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি—আজ এবং ভবিষ্যতের জন্য”। প্রতিপাদ্যটি তরুণদের শিক্ষা, প্রজনন স্বাস্থ্য, মানবাধিকার ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করে।
আলোচনায় আরও উল্লেখ করা হয়, জাতিসংঘ ও ইউএনএফপিএ দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে পরিবার পরিকল্পনা, নিরাপদ মাতৃত্ব, মা ও শিশুস্বাস্থ্য, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, লিঙ্গসমতা, মানবাধিকার, সহিংসতা প্রতিরোধ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে আসছে।
বক্তারা জানান, ২০২৩ সালের ইউএনএফপিএর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১৭ কোটি ৩০ লাখ এবং জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে দেশের অবস্থান অষ্টম। একই সময়ে দেশের মোট প্রজনন হার (TFR) ছিল ১.৯ এবং কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর হার বেশি থাকায় বাংলাদেশ এখনও জনমিতিক লভ্যাংশ (Demographic Dividend) অর্জনের সুযোগ ধরে রেখেছে।
তারা বলেন, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি ৭৮ লাখে পৌঁছেছে। তাই জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে পরিবার পরিকল্পনা, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং তরুণদের ক্ষমতায়নের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
আলোচনা সভা শেষে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়।
