চট্টগ্রামে নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর নিয়ে পাল্টা পাল্টি কর্মসূচী পালিতে হয়েছে। একদিকে যৌক্তিক স্থানে সদর দপ্তরের দাবীতে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল অন্যদিকে সদর দপ্তর ভূজপুরে বহাল রাখার দাবি জানিয়ে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ১৬ জুলাই নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলায় এসব কর্মসূচী পালিত হয়। “ভূজপুর নিয়ে ষড়যন্ত্র মানবো না, মানবো না”— এই স্লোগানকে সামনে রেখে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা ইস্যুতে ভূজপুরের কাজিরহাট এলাকায় একটি গণমিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। বক্তারা ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর ভূজপুরে বহাল রাখার দাবি জানান এবং এ বিষয়ে যেকোনো পরিবর্তনের বিরোধিতা করেন। তারা বলেন, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পর নতুন উপজেলা বাস্তবায়ন হয়েছে, তাই গেজেটে নির্ধারিত স্থানেই সদর দফতর স্থাপন করা উচিত। ভূজপুরের বাসিন্দা মোহাম্মদ বেলাল বলেন, সরকারের সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। গেজেটে যেখানে সদর দফতর নির্ধারণ করা হয়েছে, সেখানেই তা বাস্তবায়ন হওয়া উচিত। হরতালের কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। এদিকে চট্টগ্রামে নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদ’-এর ডাকে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার পালিত হওয়া হরতালের কারনে ঢাকা-ফেনী-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক এবংচট্টগ্রাম-ফটিকছড়ি পেলাগাজি দিঘী-হেয়াঁকো সড়কে যানবাহন চলাচল ছিল বন্ধ । এতে বাস, ট্রাক, সিএনজি অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন সড়কে আটকা পড়ে এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। চট্টগ্রাম শহর থেকে আসা একটি কোম্পানির প্রতিনিধি মোহাম্মদ কবির বলেন,আমরা কোম্পানি কাজে হেঁয়াকো যেতে চাইলাম,মাঝ পথ থেকে ফিরে যেতে হচ্ছে হরতালের কারনে। কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম থেকে আসা বরযাত্রীর গাড়ীও বিভিন্নস্থানে আটকে পড়ে বর মোহাম্মদ শরীফ হোসেন নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন,খুব খারাপ লাগছে আনন্দের দিনে বিভিন্নস্থানে বাঁধার সম্মুখিন হয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নারায়ণহাট, দাঁতমারা ও বাগানবাজার ইউনিয়নে যান চলাচল ও ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রভাব পড়েছে ব্যাপকভাবে। সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে নারায়ণহাট, দাঁতমারা, শান্তিরহাট, হেয়াঁকো, চিকনছড়া ও বাগানবাজার এলাকার অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ ছিল। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ফার্মেসি ও ক্লিনিক খোলা ছিল। বালুটিলা বাজার, চিকনছড়া বাজার, গার্ডের দোকান, হেয়াঁকো, দাঁতমারা, শান্তিরহাট ও নারায়ণহাট এলাকায় আন্দোলনকারীরা পিকেটিং, বিক্ষোভ ও মিছিল করেন। তবে, শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোথাও অপ্রিতিকর কোনো ঘটনা ঘটেনি। আন্দোলনকারীরা বলেন, নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর পশ্চিম ভূজপুর মৌজায় স্থাপনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তারা আন্দোলন করছেন। ফটিকছড়ির ভৌগোলিক বাস্তবতা ও সাধারণ মানুষের সুবিধা বিবেচনায় সদর দপ্তর যৌক্তিক স্থানে স্থাপন করা উচিত। এ বিষয়ে তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তাঁরা বলেন, ফটিকছড়ি উত্তরাঞ্চলের প্রায় আড়াই লাখ মানুষের স্বার্থে সদর দপ্তর এমন স্থানে স্থাপন করা প্রয়োজন, যাতে সব এলাকার মানুষ সমানভাবে প্রশাসনিক সেবা গ্রহণ করতে পারেন। ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের সমন্বয়ক নুরুল আমিন আযাদ বলেন, উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর ন্যায্যতার ভিত্তিতে উত্তরাঞ্চলেই স্থাপন করতে হবে। দাবির অংশ হিসেবে আজকের হরতাল কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। দাবি বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড়ে মোড়ে ভূজপুর থানা পুলিশের একাধিক টিম সতর্ক অবস্থানে দায়িত্বে ছিল। ভূজপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, হরতাল চলাকালে পরিস্থিতি শান্ত ছিল। বিশৃঙ্খলা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হয়েছিল। ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক ছিল। আন্দোলনকারীদের দাবির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য,গত ১ জুলাই সচিবালয়ে প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২১তম সভায় অনুমোদন করা হয়।৮ই জুলাইয়ের গেজেটের মাধ্যমে ৬টি ইউনিয়ন (বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট, ভুজপুর, হারুয়ালছড়ি ও সুয়াবিল) নিয়ে নতুন এই উপজেলা গঠিত হয়। ৫০১তম উপজেলা হিসেবে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদরদপ্তর নির্ধারণ করা হয়েছে ভূজপুর ইউনিয়নে । বর্তমান ফটিকছড়ির ইউএনও সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে প্রশাসনিক কাজও শুরু হয়ে গেছে। ২৩৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যৌক্তিক স্থানে সদর দপ্তর করার দাবীতে মানববন্ধন,সংবাদ সম্মেলন, ছাত্র বিক্ষোভের পর হরতালের মতো কর্মসূচি পালন করে উত্তর উপজেলার তিন ইউনিয়নের বাসিন্দারা। এদিকে ভুজপুর ও হারুয়ালছড়ি এলাকার বাসিন্দারা সরকারে এ সিন্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে ভুজপুরে সদর দপ্তর স্থাপনের দাবি তুলছেন। অন্যদিকে সুয়াবিল ইউনিয়নকে নবগঠিত উত্তর উপজেলা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য কর্মসূচী পালন করে আসছেন উক্ত ইউনিয়নের বাসিন্দারা।
