এমপি হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। ২৯ জুন বুধবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। ফলে এমপি হিসেবে তার দায়িত্ব পালনে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বি এন পি মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের বিরুদ্ধে জাময়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ নুরুল আমিনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন ভবনে আপিল শুনানি শেষে সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিলের রায় দেন। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন সারোয়ার আলমগীর।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার আদেশ দেন। হাইকোর্টে দায়ের করা রীটের আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগে আবারো সিএমপি দায়ের করলে শুনানি শেষে ৩ ফেব্রুয়ারী সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আপিল বিভাগ। নির্বাচনে অংশ নিয়ে সরোয়ার আলমগীর ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন, যেখানে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ৬২ হাজার ১৬০ ভোট। তবে তাঁর মনোনয়নপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে জামায়াত প্রার্থীর করা আপিলের কারণে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ নির্বাচনের ফলাফলের অফিশিয়াল গেজেট প্রকাশ ও শপথ গ্রহণের ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ দেন। পরবর্তীতে আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী হাইকোর্ট বেঞ্চে এই রুল শুনানি সম্পন্ন হয়।
বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থীতা বৈধ বলে রায় দেয় হাইকোর্ট। রায়ের ফলে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয় সারোয়ার আলমগীর। পরবর্তী জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ নূরুল আমিনের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। ২৯ জুলাই সরোয়ার আলমগীরের দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছে আপিল বিভাগ। ফলে এমপি হিসেবে সরওয়ার আলমগীর তাঁর দায়িত্ব পালনে আর বাধা নেই।
