back to top
Monday, August 3, 2026

ডিবি পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে গ্রেফতার ডেভিড ইমনসহ ৫; উদ্ধার বিদেশি পিস্তল, এলজি ও দেশীয় অস্ত্র

| ৩০ জুলাই, ২০২৬ ০৯:১৬

মোঃ আমজাদ হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

চট্টগ্রামে আলোচিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির দাবি করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। ধারাবাহিক গোয়েন্দা অভিযানে মোবারক হোসেন ওরফে ইমন ওরফে ডেভিড ইমনসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

একই সঙ্গে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফটিকছড়ির একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি এবং বেশ কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ, গোয়েন্দা তথ্য ও নিবিড় তদন্তের সমন্বয়ে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার জানান, গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত বহুল আলোচিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে প্রথমে এজাহারভুক্ত আসামি মো. মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছ (৪৭)-কে গ্রেফতার করা হয়।আদালতের অনুমতিতে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সন্ত্রাসী চক্র, অস্ত্রের মজুদ এবং সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৯ জুলাই যশোর জেলার কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকায় যশোর জেলা পুলিশের সহযোগিতায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমনসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ধারাবাহিক অভিযানে মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার জানান, প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক কয়েকটি আলোচিত অপরাধে তার সম্পৃক্ততার বিষয়েও তদন্ত চলছে।

গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩০ জুলাই ভোররাতে ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। সেখান থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি এবং অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সন্ত্রাসী চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস, অর্থায়নের নেটওয়ার্ক এবং সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের বিস্তৃত কার্যক্রম উদ্ঘাটনে তদন্ত চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্র ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অটল। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদারভাবে পরিচালিত হবে।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ