রাউজানের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও অর্জনকে সমুন্নত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকাল ৪টায় রাউজান সরকারি কলেজ মিলনায়তনে রাউজান উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনসমূহের উদ্যোগে আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, ভারত এ দেশে একটি পুতুল সরকার চায়। আমরা যারা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করি, যারা নারায়ে তকবীরে বিশ্বাস করি, তারা ভারতীয় আধিপত্যবাদ মেনে নেব না। যারা ওই প্রান্তে থাকে, তারা প্রতিদিন নতুন নতুন ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তারা আমাদের শান্তিতে থাকতে দিতে চায় না।
তিনি বলেন, নির্বাচন হয়েছে মাত্র ছয় মাস। আমরা কী দিয়েছি, কী দিতে পেরেছি তা আপনারা জানেন। আমাদের সদিচ্ছার কোনো ত্রুটি আপনারা পেয়েছেন কি না, সেটিও আপনারাই বিচার করবেন।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, সেদিন গণমাধ্যমে একজন মহিলার একটি কৌতুক শুনছিলাম। মহিলাটির নাম শেখ হাসিনা। কৌতুকটি ছিল, তিনি নাকি দেশে ফিরে আসবেন। বিষয়টি শুনে মনে মনে হাসছিলাম। আমার জীবদ্দশায় এই মহিলা তার সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে আর ফিরে আসতে পারবেন না।
আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই দেশ টিকে থাকলে স্থানীয় নির্বাচন হবে, আপনারাও নির্বাচনে অংশ নেবেন। এখন সর্বত্র আলোচনা হচ্ছে, চেয়ারম্যান কে হবেন, কাউন্সিলর পদে কে প্রার্থী হবেন। আল্লাহর ওয়াস্তে এই আলোচনা বাদ দিন। যার যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা আছে, তিনিই প্রার্থী হবেন।
তিনি আরও বলেন, আমি এতটা বেকুব নই যে আপনাদের সামনে অযোগ্য কাউকে তুলে ধরব। আমি কি অন্ধ হয়ে গেছি যে চাঁদাবাজ কাউকে আপনাদের কাছে তুলে দেব? আজ গণঅভ্যুত্থান দিবসে ওয়াদা করে যাচ্ছি, যিনি চাঁদাবাজ, যার জনপ্রিয়তা নেই, তাকে আপনাদের সামনে তুলে দেওয়া হবে না।
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, যার জনপ্রিয়তা আছে, যার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের কোনো অভিযোগ নেই, এমন ব্যক্তিদের আপনারা নির্বাচিত করবেন। আগামী নির্বাচন কঠিন নির্বাচন হবে। কেউ যদি মনে করেন কেন্দ্র দখল করে চেয়ারম্যান বা কাউন্সিলর হবেন, তাহলে সেই চিন্তা ভুলে যান। এই চিন্তাধারা নিয়ে যারা নির্বাচন করবেন, তাদের সঙ্গে আমি নেই।
রাউজান পৌরসভা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মঞ্জুরুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা পরিচালনা করেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি সাবের সুলতান কাজল।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ হালিম, উত্তর জেলা বিএনপির নেতা আবু জাফর চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হুদা, ফিরোজ আহমেদ, উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মো. হাবীব উল্লাহ মাস্টার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালামত উল্লাহ, বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ফয়জুল ইসলাম চৌধুরী টিপু, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মুসলিম উদ্দিন এবং উত্তর জেলা যুবদল নেতা ইউসুফ চৌধুরী।
এতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান চৌধুরী, সাবেক কাউন্সিলর এস. এম. রেজাউর রহিম আজম, উপজেলা বিএনপি নেতা মো. ইউসুফ চৌধুরী, মহিউদ্দিন জীবন, বিএনপি নেতা মুবিনুল হক, আবু বক্কর চৌধুরী, এরশাদুর রহমান, সাবেক ছাত্রনেতা লিটন মহাজন লিটু, উত্তর জেলা যুবদলের যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ তৈহিদুল আলম, উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ইউসুফ তালুকদার, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব একরাম মিয়া, উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা মোহাম্মদ আলী সুমন, উত্তর জেলা সাবেক ছাত্রদল নেতা রাসেল খান, উপজেলা যুবদলের সভাপতি শাহাজাহান সাহিল, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আজম ছোটন, পৌরসভা যুবদলের সভাপতি আরিফুল ইসলাম, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা শাহাদাৎ মির্জা, যুবদল নেতা মো. রেওয়াজ, রাউজান সরকারি কলেজের সাবেক ছাত্রনেতা হাছান বাহাদুর, জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি নিজামুদ্দিন চৌধুরী, লিমন চৌধুরী বাপ্পা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম নেওয়াজ, পারভেজ আলম এবং উপজেলা ছাত্রদল নেতা জাহেদুল ইসলাম সহ জেলা উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সভা শেষে জুলাই আন্দোলনে নিহত শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সুমন।
এর আগে সভায় যোগ দিতে বিকাল আড়াইটার পর থেকে রাউজান উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা পৃথক পৃথক মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন।
ভারত এ দেশে একটি পুতুল সরকার চায় : গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এমপি
গাজী জয়নাল আবেদীন, রাউজান: | ০৮ আগস্ট, ২০২৬ ০৫:১৫
