চট্টগ্রামের রাউজানে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ফলাফলে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার গতানুগতিকের তুলনায় হতাশাজনক হলেও পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে ভোকেশনাল শিক্ষা। এসএসসিতে উপজেলার ৫৯টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ফলাফলের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে চুয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজ। আর দাখিলে সেরা ফল করেছে কাগতিয়া এশাতুল উলুম কামিল মাদ্রাসা।
সোমবার (১০ আগস্ট) একযোগে দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি), দাখিল ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়।

রাউজানে এবার ৫৯টি বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ৪ হাজার ৩৭০ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২ হাজার ৭২৯ জন। উপজেলায় এসএসসিতে পাসের হার ৬২ দশমিক ৪৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৯৮ জন শিক্ষার্থী। তবে ৫৯টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৮টি প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি।
এসএসসির ফলাফলে উপজেলার ৫৯টি বিদ্যালয়ের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে চুয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির ১৬৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৬১ জন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ১৭ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বোচ্চ ৪৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
অন্যদিকে, এসএসসির ফলাফলে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে লেলাংগারা পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ২৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ৬ জন। পাসের হার ২৩ দশমিক ০৬ শতাংশ।
দাখিল পরীক্ষায়ও ফলাফলে হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। রাউজানের ২৩টি মাদ্রাসা থেকে এবার ৯৮৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫৩৬ জন। উপজেলায় দাখিলে পাসের হার ৫৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২১ জন। ২৩টি মাদ্রাসার মধ্যে ১২টি প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি।
দাখিলের ফলাফলে উপজেলার শীর্ষে রয়েছে কাগতিয়া এশাতুল উলুম কামিল মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠানটির ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৮৮ দশমিক ৫১ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বোচ্চ ৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
তবে দাখিলের ফলাফলে সবচেয়ে হতাশাজনক অবস্থানে রয়েছে পাঁচখাইন মহিউল উলুম দাখিল মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠানটির ১০ জন পরীক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
এ বিষয়ে মাদ্রাসাটির সুপার মাওলানা মুহাম্মদ আতাউল মোস্তাফা বলেন, পরীক্ষার্থীদের দুর্বল প্রস্তুতি এবং অভিভাবকদের সীমিত সম্পৃক্ততার কারণে এমন ফলাফল হয়েছে। মাদ্রাসাটিতে এমপিওভুক্ত আটজন শিক্ষক ছাড়াও তিনজন খণ্ডকালীন শিক্ষক পাঠদানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। ১৯৯৯ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আসছে। এর আগে কখনো এমন ফল বিপর্যয় হয়নি।
এদিকে, এসএসসি সমমানের ভোকেশনাল পরীক্ষায় রাউজানের পাঁচটি প্রতিষ্ঠান থেকে ৩২৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২০৮ জন। পাসের হার ৬৪ দশমিক ২০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ জন। ফলে এসএসসি ও দাখিলের তুলনায় ভোকেশনাল শিক্ষায় পাসের হার কিছুটা বেশি।
ভোকেশনালে ফলাফলে উপজেলার শীর্ষে রয়েছে রাউজান সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির ১৪২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১০১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭১ দশমিক ১৩ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বোচ্চ ৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
রাউজান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সজল চন্দ্র চন্দ ফলাফলের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. রাহাতুল ইসলাম বলেন, সারাদেশের মতো রাউজানের ফলাফলও মোটামুটি সমপর্যায়ের। তবে এসএসসি ও দাখিল পর্যায়ের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ফলাফল সন্তোষজনক নয়। যেসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল খারাপ হয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ ও শিক্ষকদের নিয়ে সভা করা হবে। ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা গত ২১ এপ্রিল শুরু হয়ে ২০ মে শেষ হয়। পরে ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
