back to top
Saturday, September 5, 2026

রাউজান পাঁচখাইন মহিউল উলুম দাখিল মাদ্রাসা ১১ শিক্ষক, ১০ পরীক্ষার্থী; পাস করেনি কেউ!

গাজী জয়নাল আবেদীন , রাউজান | ১১ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৫০

১১ জন শিক্ষক। পরীক্ষার্থী মাত্র ১০ জন। অথচ দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ওই ১০ পরীক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এমন ফলাফল এসেছে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাঁচখাইন মহিউল উলুম দাখিল মাদ্রাসায়। ১৯৯৯ সাল থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে এবারই প্রথম এমন ফল বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে।
মাদ্রাসাটিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক রয়েছেন ৮ জন। এর বাইরে খণ্ডকালীন শিক্ষক রয়েছেন আরও ৩ জন। অর্থাৎ ১০ জন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন ১১ জন। এরপরও এবারের দাখিল পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।
রাউজানে এবারের দাখিল পরীক্ষার সামগ্রিক ফলাফলও খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। উপজেলার ২৩টি মাদ্রাসা থেকে ৯৮৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫৩৬ জন। পাসের হার ৫৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২১ জন। ২৩টি মাদ্রাসার মধ্যে ১২টি প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি।
তবে এ ফলাফলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে পাঁচখাইন মহিউল উলুম দাখিল মাদ্রাসা। মাত্র ১০ জন পরীক্ষার্থী নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে একজনও উত্তীর্ণ না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির ফলাফলে ফুটে উঠেছে শতভাগ অকৃতকার্যতার চিত্র।
স্থানীয় আবু তাহের সওদাগর বলেন, মাদ্রাসাটি মুষ্টিমেয় কয়েকজনের হাতে পরিচালিত হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম তদারকির তেমন সুযোগ নেই। শিক্ষকদের গাফিলতিও রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদ্রাসাটির এক অভিভাবক অভিযোগ করেন, সুপারের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান দিন দিন খারাপ হয়েছে। নিয়মিত ক্লাসও হয় না। তিনি বলেন, তাঁর বাড়ি থেকে মাত্র ৩০০ মিটার দূরে মাদ্রাসাটি হলেও এ বছর তিনি ছেলেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরের নোয়াপাড়া মাদ্রাসায় ভর্তি করেছেন।
ওই অভিভাবকের অভিযোগ, মাদ্রাসার সুপার অনৈতিক সুবিধা নিয়ে বাইরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীদের এ মাদ্রাসায় রেজিস্ট্রেশন করিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এবারও ১০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫ জন অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ছিল বলে তিনি দাবি করেন। এসব শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাসে আসত না। এমনকি মাদ্রাসার অন্য শিক্ষার্থীরাও নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকত না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, এ কারণেই এমন লজ্জাজনক ফলাফল হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম ও এলাকার সম্মান রক্ষায় মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে এলাকাবাসী বৈঠকে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পাঁচখাইন মহিউল উলুম দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মুহাম্মদ আতাউল মোস্তাফা। তিনি প্রতিষ্ঠানটির এমন ফলাফলের জন্য পরীক্ষার্থীদের দুর্বল প্রস্তুতি ও অভিভাবকদের উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন।
মাওলানা মুহাম্মদ আতাউল মোস্তাফা বলেন, পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি দুর্বল ছিল। পাশাপাশি অভিভাবকদের সম্পৃক্ততাও সীমিত ছিল। মাদ্রাসাটিতে ৮ জন এমপিওভুক্ত শিক্ষকের পাশাপাশি ৩ জন খণ্ডকালীন শিক্ষক রয়েছেন। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পাঠদানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। তারপরও এবার ফলাফল আশানুরূপ হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ১৯৯৯ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আসছে। এর আগে কখনো এমন ফল বিপর্যয় হয়নি। এবারের ফলাফল প্রতিষ্ঠানটির জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক।
পাঁচখাইন মহিউল উলুম দাখিল মাদ্রাসার বিপরীতে রাউজানের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে এবারও ভালো অবস্থানে রয়েছে কাগতিয়া এশাতুল উলুম কামিল মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠানটির ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৮৮ দশমিক ৫১ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকেই সর্বোচ্চ ৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
একই উপজেলার দুটি প্রতিষ্ঠানের ফলাফলে তাই দুই ধরনের চিত্র সামনে এসেছে। একদিকে কাগতিয়া এশাতুল উলুম কামিল মাদ্রাসায় সাফল্যের ধারাবাহিকতা, অন্যদিকে পাঁচখাইন মহিউল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় শতভাগ অকৃতকার্যতার ঘটনা। ফলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম, পাঠদানের পরিবেশ ও পরিচালন ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
পাঁচখাইন মহিউল উলুম দাখিল মাদ্রাসার এমন ফলাফলকে কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. রাহাতুল ইসলাম।
তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের এমন ফলাফল কাম্য নয়। যেসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল খারাপ হয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ ও শিক্ষকদের নিয়ে সভা করা হবে। ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ