চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ‘এমাজ্যান খ্যাত’ হাজীরখীল বন্যপ্রাণী এলাকার ২২ কিলোমিটার দুর্গম পথ পায়ে হেঁটে পরিদর্শন করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর। শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে তারা ফটিকছড়ি-চট্টগ্রাম সংসদীয় এলাকার দুর্গম এ বনাঞ্চল পরিদর্শনে যান। এ সময় প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় এমপি প্রায় ২২ কিলোমিটার দুর্গম পথ পায়ে হেঁটে অতিক্রম করে প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু একটি পাহাড়ে ওঠেন। পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছে তারা নামাজ আদায় করেন। পরিদর্শনকালে বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সংরক্ষণের অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়। একই সঙ্গে হাজীরখীলের প্রাকৃতিক পরিবেশ, বনজ সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা লাগানোর কথা বলেছেন। সেই অনুযায়ী সারা দেশে এ বছর গাছের চারা লাগানো হচ্ছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে এ বছর ২৩ লাখ ৫৫ হাজার গাছ লাগানো হয়েছে। ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীতে আরও গাছের চারা লাগানোর বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ গাছ পাচার ও বন উজাড়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে—এমন কোনো কাজ বরদাশত করা হবে না। বন বিভাগ যেসব জায়গা দখলমুক্ত করতে কাজ করছে, সেখানেও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।’ শিপইয়ার্ডে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শিপইয়ার্ডে মৃত্যু দুঃখজনক। এটি ঝুঁকিপূর্ণ শিল্প। যারা এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন, তাদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। তাহলে আমরা এ ধরনের দুর্ঘটনা থেকে কিছুটা পরিত্রাণ পেতে পারি।’
স্থানীয় সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর বলেন, ‘নির্বাচনের আগেও বলেছিলাম, খনিজ ও বনজ সম্পদে সমৃদ্ধ ফটিকছড়ি একটি সমৃদ্ধিশালী ফটিকছড়ি। রাজনৈতিক নেতৃত্বের কারণে আমরা জাতি ও বাংলাদেশকে এর সঠিক পরিচয় করিয়ে দিতে পারিনি। ইনশাআল্লাহ, আজকে মাননীয় বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী আমাদের ফটিকছড়ির বনাঞ্চল ঘুরে দেখেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি আশা করবো, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ফটিকছড়ির খনিজ ও বনজ সম্পদের বিষয়ে অবহিত করবেন। বর্তমানে যে গ্যাস সংকট রয়েছে, তা নিরসনে ফটিকছড়ি থেকে আরও গ্যাস উত্তোলনের সুযোগ রয়েছে।’ ফটিকছড়িতে এসে বনাঞ্চল পরিদর্শন করায় প্রতিমন্ত্রীকে ফটিকছড়িবাসীর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর। পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহীম, আহমেদ হোসেন তালুকদার, জহির আজম চৌধুরী, নাজিম উদ্দীন শাহীন, মোশারাফুল আনোয়ার চৌধুরী মশু, মোজাহারুল ইকবাল লাভলু, মহিন উদ্দিন মেসিসহ বন বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও দলীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
