back to top
Friday, June 5, 2026

ফটিকছড়িতে একাধিক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি চ | ১০ মে, ২০২৬ ১১:৪৬

ট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে এক নুরানী শিক্ষার্থীসহ একাধিক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে মাওলানা মোহাম্মদ মারুফ(২৫) নামে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধরের মাধ্যমে মাদরাসা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে অভিযুক্ত শিক্ষককে আইনের হাতে তুলে না দেওয়ায় অভিবাবকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডেস্থ ফকিরহাট বাজারের পূর্ব পার্শ্বে, বাবুনগর মাদ্রাসা থেকে দেড় কি.মি উত্তর-পূর্বে অবস্থিত বায়তুল করিম নূরানী মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শিক্ষক উক্ত এলাকার মৃত আবুল হোসেনের ছেলে। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে গত বৃহস্পতিবার এলাকায় এক বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ওই শিক্ষককে চড় থাপ্পড় ও গাছের ডাল দিয়ে মারধর করা হয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং ভুক্তভোগী পরিবার বৈঠকে পুরো বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা বা সমাধানের চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে। তবে একাধিক শিশুকে হয়রানির তথ্য সামনে আসায় সাধারণ অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযুক্তকে পুলিশে না দিয়ে চড় থাপ্পড়ে বিচার শেষ করা মানতে পারছেননা ভুক্তভুগী ও অভিবাবকরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাওলানা মোহাম্মদ মারুফ ওই মাদরাসার এক শিশু শিক্ষার্থীসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়ানোর সুযোগে দীর্ঘদিন ধরে যৌন হয়রানি করে আসছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা এমদাদ উল্লাহ বলেন, শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে জানার পরপরই আমরা তাকে বহিষ্কার করেছি। শিশুদের নিরাপত্তার প্রশ্নে আমরা কোনো আপোষ করব না। স্থানীয় বাসিন্দা আকতার জানান, ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীকে শারীরিক সমস্যার কারণে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে ওই শিক্ষার্থীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, মাওলানা মোহাম্মদ মারুফ প্রাইভেট পড়ানোর সুযোগে দীর্ঘদিন ধরে তাকে যৌন হয়রানি করে আসছিলেন। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে আরও অনেক অভিভাবক মুখ খুলতে শুরু করেন এবং জানা যায়, মাওলানা মারুফ আরও একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে একই কাজ করেছেন। ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান বলেন, বিষয়টি আমরা শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। ভুক্তভোগী পরিবার বা অন্য কেউ অভিযোগ দিলে আমরা দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এলাকাবাসীর দাবি, শিশুদের নিরাপত্তার স্বার্থে এ ধরনের শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন- যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন সাহস না পায়।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ