চট্টগ্রামের রাউজানে ঝড়ে উপড়ে পড়া একটি শিরীষ গাছের মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে জেঠাতো ভাইয়ের হামলায় আহত এক চাচাতো ভাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নিহত আব্দুল মান্নান সওদাগর (৩৮) রাউজান উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জনিপাথর এলাকার মোহাম্মদ কবির আহাম্মদের ছেলে। তিনি জনিপাথর বাজারের একজন মুদি ব্যবসায়ী ছিলেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত তার জেঠাতো ভাই একই এলাকার বাসিন্দা সালেহ আহমেদের ছেলে মো. শাহজাহান। পরিবার, স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সম্প্রতি প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাস্তার পাশের একটি শিরীষ গাছ পুকুরে পড়ে যায়। গাছটির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এ বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গত ২৫ জুন স্থানীয়ভাবে একটি সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকৃত মালিকের কাছ থেকে নিহতের বড় ভাই লোকমান সওদাগর গাছটি কিনে নেন। অভিযোগ রয়েছে, বৈঠক শেষে ওই দিন দুপুরে আব্দুল মান্নান নিজ দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত শাহজাহান পেছন থেকে একটি গাছের গুঁড়ি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে আরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) শয্যা না পাওয়ায় পরে নগরীর বায়েজিদ এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (২৯ জুন) প্রথম প্রহরে তার মৃত্যু হয়। নিহতের বড় ভাই লোকমান সওদাগর অভিযোগ বলেন, তুচ্ছ একটি গাছকে কেন্দ্র করে আমার জেঠা ও জেঠাত ভাই দুইজনে মিলে পরিকল্পিতভাবে আমার ভাইকে হত্যা করেছে। খুনি শাহজাহন একালার একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী। প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়। আমি এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। দাফন কার্য শেষ করে আমরা মামলার প্রস্তুতি নিব। তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম বলেন, গাছের মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে আহত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে ঘটনার বিষয়ে পুলিশ প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান শুরু করেছে।
ডাবুয়া আমির চৌধুরী জামে মসজিদের খতিব ও রাউজান প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ বেলাল উদ্দিন মাইজভান্ডারী বলেন, সামান্য সম্পত্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রাণহানির মতো ঘটনা সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, সহিংসতার প্রবণতা এবং বিরোধ নিষ্পত্তিতে আইনের পরিবর্তে শক্তি প্রয়োগের মানসিকতার উদ্বেগজনক বহিঃপ্রকাশ। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা জোরদার এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। উল্লেখ্য, গত বছরের ১ এপ্রিল একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ফকিরটিলা এলাকায় পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রকৌশলী নুরুল আলম বকুল (৪৩) নিহত হওয়ার ঘটনাও এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। স্থানীয়দের মতে, পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধে সহিংসতার এমন ধারাবাহিক ঘটনা গভীর উদ্বেগের।
