শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (কঃ) ট্রাস্ট দীর্ঘদিন ধরে তাসাওউফ, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নয়ন, মানবতা, সামাজিক সম্প্রীতি, ন্যায়বিচার এবং গবেষণাভিত্তিক জ্ঞানচর্চার প্রসারে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এ ধারাবাহিকতায় তরুণ গবেষক, শিক্ষার্থী ও নবীন শিক্ষাবিদদের মধ্যে সুফি গবেষণার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং উচ্চমানের গবেষণাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ট্রাস্ট “SZHMT Best Sufi Researcher 2026” শীর্ষক গবেষণাধর্মী প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত গবেষণা প্রস্তাবনাসমূহ মূল্যায়নের পর মনোনীত ১১জন গবেষককে সম্মাননা ও গবেষণা অনুদান প্রদান অনুষ্ঠান ২৯ জুন সোমবার সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ মিলনায়তনে (বিবিএ ফ্যাকাল্টি) অনুষ্ঠিত হয়। শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (কঃ) ট্রাস্ট-এর উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জসীমউদ্দিন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান, বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে এস জেড এইচ এম ট্রাস্টের সচিব অধ্যাপক এ ওয়াই এমডি জাফর ট্রাস্টের বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি এ ধরণের প্রতিযোগিতার প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন। ‘সুফি গবেষণা ও মাইজভাণ্ডারী দর্শন’ বিষয়ে আলোচনা করেন চ.বি আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. মাওলানা মোহাম্মদ জাফর উল্লাহ্। প্রধান অতিথি চ.বি উপাচার্য বলেন, এস জেড এইচ এম ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে মানবতার কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সেলের সাথে যুক্ত হয়ে ট্রাস্ট গবেষণাকর্মেও সম্পৃক্ত থাকতে পারে। বক্তরা আরোও বলেন, ইসলামের প্রচার ও প্রসারে এবং সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় সুফিদের ভূমিকা ও সুফি গবেষণার গুরুত্ব রয়েছে। সুফিবাদ মানবতা, পরমতসহিষ্ণুতা ও কল্যাণের দর্শন। সুফিবাদ বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে কানেক্টিভিটি সৃষ্টি করে। মানুষকে আদর্শিক জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্যে সুফি দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সুফিবাদের অন্যতম একটি কেন্দ্র মাইজভাণ্ডার শরিফ। দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে সকলেই মাইজভাণ্ডার গমন করেন। এ দরবারে মানবসেবামূলক সংগঠন মানবকল্যাণ এবং শান্তিপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। সম্মাননা ও গবেষণা অনুদান প্রাপ্ত ১১জন গবেষক হলেন- যৌথভাবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ড. মেহরান নাজাফি হাজিভার ও ড. মোঃ নুর-ই আলম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এ জি এম নিয়াজ উদ্দিন, যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর নর্থ ওয়েসটার্ন ইউনিভার্সিটির রিজওয়ানুল ইসলাম, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ’র আইন বিভাগের প্রভাষক মোঃ জাহেদুল ইসলাম, পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মোঃ জোনায়েত সাজ্জাদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সুমাইয়া ইসরাত রাফি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মোঃ মোজাম্মেল হোসেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংগীত বিভাগের প্রেমা চৌধুরী, বরিশাল ফজলুল হক কলেজের মোঃ গোলাম রাব্বী, চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের সজীবুল হাসান চৌধুরী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোঃ সিফাতুল ইসলাম।
