টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক স্থানে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় শত শত পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। এমন পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। শনিবার (১১ জুলাই) গুইমারা রিজিয়নের অধীন লক্ষ্মীছড়ি জোনের উদ্যোগে উপজেলার সুন্দরপুর, হারুয়ালছড়ি ও আশপাশের বন্যাকবলিত এলাকায় জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সেনাসদস্যরা নৌযান ও অন্যান্য উপায়ে দুর্গম এলাকায় পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত ১০০টি পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় ত্রাণ তুলে দেন। আগের দিনও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্গম এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং খাদ্যসংকট মোকাবিলায় গুইমারা রিজিয়নের সদস্যরা মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক কাজ করছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
গত কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার,বখতপুর,ধর্মপুর,আব্দুলাহপুর,হারুয়ালছড়ি,ভুজপুর,নারায়নহাট,রোসাংগিরী,সুন্দরপুর,সমিতিরহাট,সুয়াবিল, নাজিরহাট পৌরসভার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল এলাকা এখন পানির নিচে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ভয়াবহ বন্যার আশংকা করছে এলাকাবাসী। হালদা,ধুরং,সর্তাসহ বিভিন্ন খাল নদীর বিভিন্নস্থানের বাঁধের ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। শংকায় দিনপাতিত করছে এলাকাবাসী। শত শত একর আবাদি জমি এখন পানির নিচে। বিশেষ করে এই মৌসুমের আমন চাষের বীজতলা ও বিভিন্ন শাকসবজির ক্ষেত সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। বিভিন্ন প্রধান সড়ক ও গ্রামীণ সড়ক সমূহ পানির নিচে ডুবে আছে।
