বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের কুমারী-চাককাটা সড়কের উন্নয়ন কাজ ও ব্রিজ নির্মাণে চরম অনিয়মসহ ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। এতে এলাকার স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, গর্ভবতী নারী ও অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এছাড়া কৃষিজীবী মানুষ তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিয়ে যেতে পারছেন না, যার ফলে তারা অর্থনৈতিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সব মিলিয়ে ওই এলাকার হাজার হাজার মানুষ এখন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। নির্মাণ কাজে নিম্মমানের নির্মাণ সামগ্রী ও বালুর পরিবর্তে পাহাড়ের মাটি ব্যবহারসহ ঠিকাদার কর্তৃক কাজে ধীরগতির কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
জানা যায়, গত ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যায়ে কুমারি-চাককাটা সড়কের ২ কিলোমিটার কার্পেটিং নির্মাণের দরপত্র আহবান করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। দরপত্রে চুয়াডাঙ্গার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জাকাউল্লাহ কন্সট্রাকশন কাজটি পায়। তারা কাজটি পেলেও বাস্তবে কাজটি করছেন বান্দরবান জেলার ঠিকাদার মেহেদী হাসান। কয়েক মাস আগে কাজ শুরু করা হয়। ইতিমধ্যে ৭০ ভাগ কাজ সম্পন্ন করা হয়।
অভিযোগ উঠেছে, কাজের শুরুতে সড়কের স্কুলপাড়া এলাকার পুরনো ও সচল ব্রিজটি ভেঙে ফেলা হয়। ব্রিজটি ভাঙার পর ব্রিজের পুরাতন রড, ইট ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী বিক্রিও করে দেন ঠিকাদার কর্তৃপক্ষ। কাজে ব্যবহার করেন নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ও বালুর পরিবর্তে পাহাড়ের মাটি। শুধু তায় নয়, নতুন ব্রিজ নির্মাণ না করে কাজ ফেলে রাখায় বর্তমানে সামান্য বৃষ্টি হলেই পাহাড়ি ঢল ও পানির তোড়ে যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়রা এখন নিজেদের উদ্যোগে কোনোমতে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে একটি নড়বড়ে সাঁকো তৈরি করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন। তাই এলাকাবাসীর প্রশ্ন, কাজ যদি নাই করা হবে, তবে সচল পুরাতন ব্রিজটি ভেঙে ফেলার কি প্রয়োজন ছিল ?
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, সড়কের চলমান খোয়া বিছানোর কাজ মাঝপথে বন্ধ থাকায় সাম্প্রতিক বর্ষায় সড়কটি এখন সম্পূর্ণ কাদামাটিতে পরিণত হয়েছে। আবার কোনো কোনো স্থানে বড় বড় গর্ত ও নালা তৈরি হয়েছে। কোনো ধরনের যানবাহন তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলাচলেরও উপায় নেই। এছাড়া ব্রিজ ভেঙে ফেলার কারণে ওই অংশ দিয়ে চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
চরম ভোগান্তির সত্যতা নিশ্চিত করে চাককাটা গ্রামের বাসিন্দা বেলাল হোসেন, শহিদুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীরসহ অনেকে জানান, ঠিকাদার মেহেদী হাসান কাজ অসমাপ্ত রেখে গায়েব হয়ে যায়। ইচ্ছে করলে বর্ষার আগে কাজ শেষ করতে পারতেন ঠিকাদার। কিন্তু তা না করে কাজ ফেলে রেখেছেন। এতে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, গর্ভবতী নারী ও অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে কৃষিজীবী মানুষ তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিয়ে যেতে পারছেন না। ঠিকাদারের সাথে বারবার যোগাযোগ করেও কোনো সুরাহা পাননি।
সংশ্লিষ্ট এলজিইডি কর্তৃপক্ষ এবং ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারমান মো. জাকির হোসেন মজুমদার জানান, অতি দ্রুত এই জনগুরুত্বপূর্ণ কুমারী-চাককাটা সড়কের কাজ পুনরায় শুরু করে ব্রিজটি নির্মাণ করা হোক। এছাড়া হাজারো মানুষকে চরম ভোগান্তিতে ফেলার কারণে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে নেওয়া হউক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার মেহেদী হাসান জানায়, বর্ষার আগে ৭০ ভাগ কাজ শেষ করেছিলাম। শুধু মাত্র কার্পেটিং বাকি ছিল। প্রবল বর্ষণের কারণে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। দ্রুত কাজ শুরু করা হবে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের লামা উপজেলা প্রকৌশলী আবু হানিফ বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। ঠিকাদারের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। জনভোগান্তি দূর করতে দ্রুত কাজ শুরু করে ব্রিজ ও সড়ক নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হবে।
লামায় ঠিকাদারের গাফিলতি, সড়ক ও ব্রিজের নির্মাণ কাজ বন্ধ, চরম দুর্ভোগে ৬ গ্রামের হাজারো মানুষ
মো. নুরুল করিম আরমান, লামা (বান্দরবান) | ১৫ জুলাই, ২০২৬ ১১:৫২
