চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সাবেক স্পিকার ও ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট এ.কে.এম ফজলুল কাদের চৌধুরীর নামে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি আবাসিক হলের নামকরণের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে ‘ছাত্র-অভিভাবক’ ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি আবু জাফর চৌধুরী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক মোহাম্মদ আলী সুমন।

মানববন্ধনে রাউজান- রাঙ্গুনিয়া- হাটহাজারী -ফটিকছড়ি উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সচেতন নাগরিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, ১৯৬২ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে থাকাকালে এ.কে.এম ফজলুল কাদের চৌধুরী চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৩ সালের ১২ ডিসেম্বর তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়টি কুমিল্লার পরিবর্তে চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্তে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৬৪ সালের ৯ মার্চ তাঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য অর্থ অনুমোদন দেওয়া হয়। একই বছরের ২৯ আগস্ট তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে ১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
বক্তারা আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় এ.কে.এম ফজলুল কাদের চৌধুরীর অবদান যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরতে আগামী ১৮ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আগেই তাঁর নামে একটি আবাসিক হলের নামকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
মানববন্ধন শেষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল ফোরকানের কাছে এ দাবিতে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
