গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর ভূমিকা জল দাসের সঙ্গে বিয়ে হয় পলাশ জলদাসের। ভূমিকা দাশ এখন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। মাস দুয়েক পর তাঁদের প্রথম সন্তান পৃথিবীতে আসার কথা। দুই পরিবারে আনন্দ বিরাজ করতো। অপেক্ষা যেন সহে না। কখন নতুন অতিথির আগমন ঘটবে। কাজে যাওয়ার সময় প্রতিদিন স্ত্রী ভুমিকা দাশকে বলে যেতেন, সাবধানে চলাফেরা করবে। প্রতিদিনের মতো স্ত্রীকে সাবধানে থাকতে বলে নিজেই চিরতরে হারিয়ে গেলেন পলাশ জলদাস।
চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের ভাটিয়ারীতে শুক্রবার সকালে ফেরদৌস স্টিল নামক একটি জাহাজভাঙা কারখানায় স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে নিহত ৯ জনের মধ্যে পলাশ দাসেরও মৃত্যু হয়। পলাশ ও ভূমিকার ঘর ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকায়। সেখান থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে সাগরের উপকূলে ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ও রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে সকাল সাতটার দিকে সেই কারখানায় কাজে গিয়েছিলেন শ্রমিক পলাশ। কয়েক ঘণ্টা পর খবর আসে, তিনি আর বেঁচে নেই।
স্ত্রী ভুমিকা দাশ বুক থাপরিয়ে বলতে থাকেন, পলাশ, সন্তান হলে কী নাম রাখবেন, কী পোশাক পরাবেন, কীভাবে বড় করে তুলবেন। অভাবের সংসারেও তার মন সবসময় হাসিখুশিতে থাকতো ঘরে নতুন অতিথি আসবে এমনটা ভেবে। অনাগত সন্তান আসবে কিন্তু তার বাবা থাকবে না এটা ভাবতেই পারছিনা।
