back to top
Sunday, September 6, 2026

মাইজদীতে চক্ষু হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ, ১২ বছরের শিশুর মৃত্যু

নুশরাত রুমু, নোয়াখালী | ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:৫১

নোয়াখালীর মাইজদী শহরের দত্তেরহাট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর মো. মোসলিম (১২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মোসলিম লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের চরবসু গ্রামের মাহফুজুর রহমানের ছেলে। অভিযোগ ওঠা প্যারামেডিকস আবুল হোসেন নোয়াখালী সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ছোট হাজী বাড়ির মৃত আবুল কালামের ছেলে এবং দত্তেরহাট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাড়ির পাশে খেলাধুলার সময় একটি লাঠির অংশ মোসলিমের বাম চোখে আঘাত করে। পরে তার বাবা-মা তাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে মাইজদীর দত্তেরহাট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে যান।

পরিবারের অভিযোগ, সেখানে কর্তব্যরত প্যারামেডিকস আবুল হোসেন শিশুটির চোখে অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর সে বমি করতে শুরু করে। পরে তাকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মোসলিমকে মৃত ঘোষণা করেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে দত্তেরহাট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হোসেন বলেন, শিশুটির চোখের ওপরের ও নিচের পাতায় লোকাল অ্যানেসথেসিয়ার ড্রপ দেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকের মতে, এ ধরনের অ্যানেসথেসিয়ার কারণে মৃত্যুর কোনো আশঙ্কা নেই।
নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রাজীব আহমেদ চৌধুরী বলেন, শিশুটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি সুধারাম থানার পুলিশকে জানানো হয়েছে।

সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, নিহতের স্বজনেরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে পুলিশকে বিষয়টি জানান। মরদেহ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। ঘটনাস্থল লক্ষ্মীপুরের কমলনগর এলাকায় হওয়ায় সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

নোয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, নিহতের স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার পরপরই তিনি দত্তেরহাট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। প্রাথমিকভাবে হাসপাতালটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং নিহতের স্বজনদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অভিযোগের সত্যতা এবং শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ