back to top
Saturday, September 5, 2026

বাঁশখালীতে শিক্ষক সংকট প্রকট, প্রাথমিকে শূন্য ১৮৭ পদ

তৌহিদ-উল বারী, (চট্টগ্রাম) | ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:৪৮

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ১৬০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক মিলিয়ে ১৮৭টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষক পদে ৮৮টি এবং সহকারী শিক্ষক পদে ৯৯টি পদ শূন্য। ফলে প্রায় ৩৩ হাজার শিক্ষার্থীকে শিক্ষক সংকটের মধ্যেই পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রিপোর্ট লেখা অবধি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, বাঁশখালীর ১৬০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ১৬০টি। এর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৭২ জন। ফলে প্রধান শিক্ষক পদে শূন্য রয়েছে ৮৮টি। এসব বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৩টিতে কর্মরত সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে চলতি দায়িত্বে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ৯৭৩টি। এর মধ্যে কর্মরত আছেন ৮৭৪ জন। শূন্য রয়েছে ৯৯টি পদ। সব মিলিয়ে ১৬০টি বিদ্যালয়ে অনুমোদিত ১ হাজার ১৩৩টি শিক্ষক পদের মধ্যে ১৮৭টি পদই বর্তমানে শূন্য, যা মোট পদের প্রায় ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ।

শিক্ষক সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে প্রধান শিক্ষক পদে। অনুমোদিত ১৬০টি পদের মধ্যে ৮৮টি শূন্য থাকায় অর্ধেকেরও বেশি বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। ফলে এসব বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও একাডেমিক ব্যবস্থাপনা অনেক ক্ষেত্রে চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

৩৩ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক সংকট

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাঁশখালীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৩ হাজার ২৪৬ জন। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় নিয়মিত পাঠদান, শ্রেণি ব্যবস্থাপনা ও বিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে কর্মরত শিক্ষকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসেও রয়েছে জনবল ঘাটতি। অনুমোদিত সাতটি সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র একজন। ফলে ছয়টি পদই শূন্য। একইভাবে অফিস সহকারীর অনুমোদিত দুটি পদ থাকলেও বর্তমানে এ পদে কোনো জনবল কর্মরত নেই বলে শিক্ষা অফিসের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিদ্যালয় পর্যায়ে দপ্তরি কাম প্রহরীর ৬৯টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ৬৫ জন কর্মরত এবং চারটি পদ শূন্য রয়েছে।

শিক্ষা অফিস সংশ্লিষ্টরা জানান, বাঁশখালীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদগুলো শূন্য থাকায় বিদ্যালয় পরিদর্শন, একাডেমিক তদারকি, শিক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয় এবং সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল হামিম বলেন, বাঁশখালীতে ১৬০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষা অফিসের জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হচ্ছে। শূন্য পদগুলো পূরণ হলে বিদ্যালয়ের পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

শিক্ষা-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন না; তিনি বিদ্যালয়ের একাডেমিক নেতৃত্ব, শিক্ষকদের সমন্বয় এবং শিক্ষা কার্যক্রমের সার্বিক তদারকিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ফলে দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকা এবং সহকারী শিক্ষক পদে ঘাটতি থাকায় বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাঁশখালীতে ১৬০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি ৬০টি কিন্ডারগার্টেন প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ২০২৬ সালের শিশু জরিপ অনুযায়ী, উপজেলায় জরিপকৃত শিশুর সংখ্যা ৬৭ হাজার ৯১০ জন। এর মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে ৬৭ হাজার ৫৬৫ জন। এ হিসাবে উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষায় মোট ভর্তির হার প্রায় ৯৯ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয়ের চাহিদা বিবেচনায় দ্রুত শিক্ষক এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের শূন্য পদগুলো পূরণ করা প্রয়োজন। এতে একদিকে শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমবে, অন্যদিকে বিদ্যালয়ের পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ