রাঙামাটি প্রকৃতির সবুজে ঘেরা হ্রদ-পাহাড়ের জেলা রাঙামাটি সমতল নয়। কখনো হ্রদের উপর কখনো আবার পাহাড়ের বুক চিরে এখানে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। এ অঞ্চলে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। পাহাড় ধস রোধসহ রয়েছে নানামুখী চ্যালেঞ্জ। রাঙামাটি শহরের ২৯৪ মিটার দৈর্ঘ্যর আসামবস্তী-কাপ্তাই সংযোগ সেতুটি এ অঞ্চলের প্রাণ বললে চলে। এ সেতুকে কেন্দ্র করে রাঙামাটি- কাপ্তাই সড়ক জুড়ে নতুন পর্যটন হাব গড়ে উঠেছে। সহজে এবং অল্প সময়ের মধ্যে জেলা সদরের সাথে কাপ্তাই উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। শুধু তাই নয়; পর্যটকরা অনায়সে রাঙামাটি শহর ঘুরে এ সড়কটির রূপ অবলোকন করে কাপ্তাই চলে যেতে পারছে। দু’পাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, কটেজ।

এ সেতুতে দেখতে পাওয়া যায় হ্রদ-পাহাড়ের মিশে যাওয়া মায়ারূপ। সেতুর উপর দিয়ে প্রতিদিন হাজার-হাজার মানুষের যাতায়াত এবং শত শত যানবাহন চলাচল করছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে তৎকালীন সরকার গড়ে তোলেছে রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। স্থানীয় কৃষকের উৎপাদিত কৃষি পণ্য পরিবহন, বিকিকিনি এবং বাণিজ্যিক চালিকা ঘুরাতে এ সেতু খুবুই গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখছে। ২০০৬ সালে রাঙামাটি-কাপ্তাই উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার দূরত্ব কমিয়ে আনতে তৎকালীন সরকার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে ১৯৪ মিটার দৈর্ঘ্যর বিশাল সেতু নির্মাণ করেছিলো। কালের বিবর্তনে দীর্ঘ দু’দশকের পর সেতুটির পিলারসহ অবকাঠামো দুর্বল হতে থাকে। সেতুটির অবকাঠামো মজবুত এবং ঠেকসই করতে না পারলে যেকোন সময়ে মধ্যে বড় ধরণের দুর্ঘটনার সম্ভবনা ছিলো। রাঙামাটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ সেতুটির ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০২৪ সালের শুরুতে রিট্রোফিটিং (সেতুর নিরাপত্তা কার্যকারিতা আধুনিকরণ)-এর কাজ শুরু করেছিলো। বর্তমানে সেতুর কাজ শেষের পথে। আর মাত্র তিনটি পিলারের রিট্রোফিটিং কাজ শেষ হলে পুরো সেতু আগামী ৩০-৪০ বছরে জন্য টেকসই হয়ে যাবে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর রাঙামাটি কার্যালয় থেকে জানা গেছে, ২০০৬ সালে ২৯৪ মিটার দৈর্ঘ্যর আসামবস্তী-কাপ্তাই সংযোগ সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিলো। এটি এলজিইডি কর্তৃক নির্মিত বড় সেতুগুলোর মধ্যে একটি। বর্তমানে সেতুটির রিট্রোফিটিংয়ে ব্যয় করা হচ্ছে মাত্র এক কোটি ৮০লাখ টাকা। যেখানে এ ধরণের সেতুটি নতুন করে তৈরি করতে সরকারের খরচ হতো ৮০ কোটি টাকারও বেশি। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) রাঙামাটি সদর উপজেলা প্রকৌশলী প্রণব রায় চৌধুরী বলেন, পুরো বছর বেশিরভাগ সময় সেতুটির পিলারগুলো কাপ্তাই হ্রদের পানিতে তলিয়ে থাকে। গ্রীষ্ম মৌসুমে যেসময়টুকু পাওয়া গেছে সেই সময়ের মধ্যে রাত-দিন দ্রুত কাজ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সেতুটির উঁচু পিলারের ‘স্টেজিং’ ( স্টিল শাটারের উপর কাঠামো সেট আপ) করা আমাদের জন্য অন্যতম চ্যালেঞ্জ ছিলো। মূলত সেতুটির ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়নে যে সময়টুকু ব্যয় হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো সেতুর পিলারের ‘স্টেজিং’ করা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) রাঙামাটি জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ শফি বলেন, প্রথমে সেতুটির ক্ষয়-ক্ষতি নির্ধারন করা হয়েছে। এরপর সেতুটির ভৌত অবকাঠামোর কাজ শুরু করা হয়। সেতুটি কাজ করতে আমাদের মাত্র এক কোটি ৮০লাখ টাকায় খরচ করা হয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ শফি আরও বলেন, সেতুটি ভেঙে নতুন করে তৈরি করতে হলে সরকারের ব্যয় হতো ৮০ কোটি টাকারও বেশি। এছাড়ও দীর্ঘ সময় ব্যয় হতো এবং ভেঙ্গে পড়তো যোগাযোগ ব্যবস্থা। বর্তমানে এ সেতুটির এমন কাজ করা হয়েছে যা আগামী ৩০-৪০ বছর পর্যন্ত টেকসই হয়ে থাকবে।
