টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন নদী,খালের পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই। ইতিমধ্যে তলিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চল এলাকা। উপজেলার হারুয়ালছড়ি,ভুজপুর,নারায়নহাট,রোসাংগিরী,সমিতিরহাট ইউনিয়নের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল এলাকা এখন পানির নিচে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ভয়াবহ বন্যার আশংকা করছে এলাকাবাসী। হালদা,ধুরং,সর্তাসহ বিভিন্ন খাল নদীর পানি এখন বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই। বিভিন্নস্থানের বাঁধের ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। শংকায় দিনপাতিত করছে এলাকাবাসী। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে ইতোমধ্যে উপজেলার এইচএসসি ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
অব্যাহত বৃষ্টিতে হালদা নদীসহ উপজেলার বিভিন্ন খাল-বিল ও জলাশয়ের পানি দ্রুত বাড়ছে। হারুয়ালছড়ি ও ধর্মপুরসহ কয়েকটি এলাকায় পানি বেড়ে যাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। উপজেলা সুন্দরপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড এলাকায় উপজেলা প্রশাসন ও সুন্দরপুর ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ওই মাইকিং করা হয়। এছাড়াও, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগী বন্যার পরিস্থিতি কন্ট্রোল টিম ও জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য গঠন করা হয়েছে মেডিকেল টিম। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন এবং ফটিকছড়ি ও নাজিরহাট পৌরসভার মোট ২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় থেকে এ আদেশ জারি করা হয়। আদেশে বলা হয়েছে, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি রাখতে হবে। প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো খাবার, নিরাপদ পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও খাবার স্যালাইনসহ জরুরি সামগ্রী মজুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নারী, শিশু, বয়স্ক ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে হালদার পাশাপাশি ধুরুং, লেলাং, কুতুবছড়ি, বারমাসিয়া, ফটিকছড়ি, হারুয়ালছড়ি, গজারিয়া, শোভনছড়ি ও সর্তা খালের পানিও দ্রুত বাড়ছে। পানি আরও বাড়লে নদীসংলগ্ন ও নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দিতে পারে।
হালদা নদীর ভাঙ্গনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম। পরিদর্শনকালে তিনি ভাঙ্গনের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। একই সঙ্গে ভাঙ্গন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত কার্যক্রম গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরো জানান, ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে হালদা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
