বাংলাদেশে বর্তমানে স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ বিরাজ করায় এখন ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত সময় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) চট্টগ্রামের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত ইতালিয়ান টেক্সটাইল মেশিনারিজ ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বি-টু-বি ওয়ার্কশপে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ইতালি ও বাংলাদেশের মধ্যে দুই বিলিয়ন ইউরোরও বেশি বাণিজ্য রয়েছে। এর মধ্যে ইতালি বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের পণ্য আমদানি করে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে পণ্যের বৈচিত্র্য ও গুণগত মান উন্নয়নে ইতালিয়ান কোম্পানিগুলো আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, চট্টগ্রাম দ্রুত দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক হাবে পরিণত হচ্ছে। কর্ণফুলী নদীর তীরে গড়ে উঠছে চায়না ইকোনমিক জোন ও ফ্রি ট্রেড জোন। মাতারবাড়িতেও প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে আরও একটি ফ্রি ট্রেড জোন। এছাড়া চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর (সিএমবিসি) প্রতিষ্ঠার বিষয়েও আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আঞ্চলিক সংযোগ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্পায়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও লজিস্টিকস হাবে পরিণত হবে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ইতালিয়ান কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।
চেম্বার সভাপতি আরও বলেন, সরকার ঘোষিত ফ্রি ট্রেড জোনগুলোতে ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’-এর মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সহজেই প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও সেবা পাবেন। তিনি টেক্সটাইল, চামড়া ও স্টিল খাতের প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি উন্নয়নে ইতালিয়ান প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা কামনা করেন। ইতালির অনারারি কনসাল মির্জা সালমান ইস্পাহানী বলেন, বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্পে ইতালিয়ান যন্ত্রপাতির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ ধরনের বি-টু-বি কর্মশালা ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করে। অন্যান্য বক্তারা বাংলাদেশে ইতালিয়ান যন্ত্রপাতির সার্ভিস সেন্টার স্থাপন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য স্থানীয় অপারেটরদের দক্ষ করে তুলতে যৌথ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি তৈরি পোশাক শিল্পের পাশাপাশি অন্যান্য উৎপাদনশীল খাতে ইতালিয়ান কোম্পানিগুলোর একক বা যৌথ বিনিয়োগেরও আহ্বান জানান তারা। কর্মশালায় ইতালিয়ান ট্রেড এজেন্সির প্রতিনিধি আন্তোনিয়েত্তা বাক্কানারি ও সিনজিয়া ক্যাম্পানিলে, চিটাগাং চেম্বারের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এম. এ. ছালাম, সাবেক সহ-সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, সাবেক পরিচালক এস. এম. আবু তৈয়ব ও এম. মহিউদ্দিন চৌধুরী, বিকেএমইএর পরিচালক আহমেদ নূর ফয়সাল, বিটিএমইএর মির্জা আহমেদ ইস্পাহানী এবং বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ মহসিনসহ ইতালি ও বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। কর্মশালার শেষপর্বে ইতালির বিভিন্ন মেশিনারিজ কোম্পানি তথ্যচিত্রের মাধ্যমে তাদের প্রযুক্তি, পণ্য ও সেবার বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করে।
×
