back to top
Saturday, September 5, 2026

বাঁশখালীতে ১০-১১ হাজার মা পাবেন ফ্যামিলি কার্ড: প্রধানমন্ত্রী

তৌহিদ-উল বারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: | ০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:১৯

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁশখালীর মানুষের পুনর্বাসন, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে একাধিক পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, চলতি বছর বাঁশখালী উপজেলার ১০ থেকে ১১ হাজার মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে সারাদেশের ৪১ লাখ মাকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে বাঁশখালী সমুদ্রসৈকত এলাকায় আয়োজিত এক জনসমাবেশে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর করেন তিনি। স্বামীহারা এক নারীর হাতে চাবি তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রতীকীভাবে ১০০ পরিবারের মধ্যে নতুন ঘর হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। পরে বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণ ও নগদ অর্থসহায়তা বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি জনগণের কাছে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সরকার গঠনের পর সেগুলো বাস্তবায়নে কাজ শুরু হয়েছে। নারীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই এর পাইলট প্রকল্প শুরু করা হয় এবং এর কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। চলতি মাস থেকে কর্মসূচিটির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

তিনি জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সারাদেশে ৪১ লাখ মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। বাঁশখালীতে এ বছরই ১০ থেকে ১১ হাজার মা এ সুবিধার আওতায় আসবেন। ভবিষ্যতে আরও বেশি পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নারীদের পাশাপাশি পুরুষদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইভাবে লবণচাষিদের কার্ড দেওয়া হবে। বাঁশখালীর মতো উপকূলীয় অঞ্চলের লবণশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

চট্টগ্রামের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চলকে শিল্পনগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার পরিকল্পনা করছে। চট্টগ্রামের বিশাল সমুদ্রসম্পদ কাজে লাগিয়ে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। শিল্পকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্বাস্থ্য খাত নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। এর মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে মানুষের চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায় এমন ব্যক্তিদের বিষয়ে জনগণকে সচেতন থাকতে হবে। কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য বা গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের সময়ে এ খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে সংসদে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করবে।

দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে কৃষি ও শিল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উৎপাদন বাড়াতে হবে, শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে হবে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়েই সরকারের সব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

বাঁশখালীর দীর্ঘদিনের দাবি বেড়িবাঁধ নির্মাণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাঁশখালীর বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে। চট্টগ্রাম অঞ্চলের দুইজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ অঞ্চলের উন্নয়ন কেউ ঠেকাতে পারবে না। বেড়িবাঁধ নির্মাণও সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম অংশ।

সমাবেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বক্তব্য দেন। স্বাগত বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য কামরুল ইসলাম হোসাইনী।

এ সময় এনজিও ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. জাকারিয়াসহ চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ