জমি দেওয়ার কথা বলে ২১ লাখ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কাজী মোহাম্মদ গালিব এহছানকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গত রোববার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ষষ্ঠ আদালত এ আদেশ দেন।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন সি.আর. ৫৫২/২০২৩ (খুলশী) মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় কাজী মোহাম্মদ গালিব এহছান এবং তার সহোদর ভাই কাজী মেহেদী এহছান, কাজী মইনুল এহছান, তাদের মা নুর নাহার বেগম ও বোন সায়লা বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার বাদী মীর মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন (৬৫) রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর এলাকার বাসিন্দা। তিনি একজন প্রবাসী। মামলার অভিযোগে বলা হয়, নাগরিক কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটিতে তিন কাঠা প্লট কেনার জন্য কাজী মোহাম্মদ গালিব এহছানের বাবা কাজী খায়রুল বশরের সঙ্গে বাদীর ২১ লাখ টাকা মূল্যের একটি প্লটের বিষয়ে চুক্তি হয়। পরে বিভিন্ন সময়ে বাদী মোট ২১ লাখ ৮০ হাজার টাকা প্রদান করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কাজী খায়রুল বশরের মৃত্যুর পর তার সন্তান ও পরিবারের সদস্যরা ওই অর্থের দায়ভার নেন এবং বাদীর নামে প্লটটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু পরবর্তীতে প্লটটি রেজিস্ট্রি না করে বাদীর দেওয়া ২১ লাখ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বাদী।
এ ঘটনায় মীর মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় মামলা করেন। আদালত সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন তলব করেন। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মামলাটি আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়।
পরে কাজী মোহাম্মদ গালিব এহছানসহ তার দুই ভাই ও বোন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। আদালত বাদীর সঙ্গে লেনদেন নিষ্পত্তির শর্তে তাদের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
বাদীপক্ষের দাবি, জামিনে যাওয়ার পরও আসামিরা তার সঙ্গে লেনদেন নিষ্পত্তি করেননি। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ আগস্ট চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ষষ্ঠ আদালত কাজী মোহাম্মদ গালিব এহছানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এদিকে, মামলায় অভিযুক্ত অন্যদের বিষয়ে আদালতের পরবর্তী কার্যক্রম কী হবে, তা সংশ্লিষ্ট নথি ও আদালতের আদেশের মাধ্যমে জানা যাবে।
মামলায় আনা অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কাজী মোহাম্মদ গালিব এহছান বা তার পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা এখনো আদালতে বিচারাধীন।
