আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করতে যাচ্ছে ফেনীর এক খুদে বিস্ময়। দেশসেরা মেধা তালিকায় নিজের স্থান সুসংহত করে ‘ইংলিশ অলিম্পিয়াড সিজন ফোর’ (English Olympiad Season 4)-এর জাতীয় পর্যায়ের সকল কঠিন ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্র্যান্ড ফিনালের জন্য অফিশিয়াল অফার লেটার ও আমন্ত্রণপত্র লাভ করেছে মুহাইমীন কামাল মুসকান। আগামী ডিসেম্বর ২০২৬-এ মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে যৌথভাবে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় সে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ করার গৌরব অর্জন করেছে।
মুসকান ফেনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির একজন অত্যন্ত মেধাবী ও নিয়মিত শিক্ষার্থী।
মুসকানের বাবা মোস্তফা কামাল একজন নিষ্ঠাবান চাকুরিজীবী, যিনি নিজে ইংরেজিতে অত্যন্ত দক্ষ। মুসকানের মেধা বিকাশে শুরু থেকেই প্রধান মেন্টর হিসেবে যথেষ্ট গাইড করেছেন তিনি। মুসকানের মা কামরুন্নেছা মনি, কবি ও সফল নারী উদ্যোক্তা। মায়ের অনুপ্রেরণায় মুসকান পড়াশোনার পাশাপাশি চমৎকার আবৃত্তি করতে পারে এবং বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় একাধিক পুরস্কার রয়েছে মুসকানের ঝুলিতে। মা-বাবার সুশিক্ষা, সাহিত্যমনস্ক পরিবেশ এবং নিবিড় পারিবারিক পরিচর্যাতেই মুসকানের মেধার এই চমৎকার বিকাশ ঘটেছে।
ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন সৃজনশীল কার্যক্রমে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে এসেছে মুসকান। তার মেধার গভীরতা কেবল ইংরেজি অলিম্পিয়াডেই সীমাবদ্ধ নয়; এর আগেও সে তার মেধার দ্যুতি ছড়িয়েছে। ৫ম শ্রেণিতে থাকাকালীন সরকারি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা সাময়িক ভাবে বন্ধ থাকলেও সে দমে যায়নি। স্থানীয়ভাবে আয়োজিত ৪টি পৃথক বেসরকারি বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৪টিতেই ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জনের এক অনন্য গৌরবময় রেকর্ড গড়েছে মুসকান।
মেধাবী এই শিক্ষার্থীর সাফল্যের বিষয়ে ফেনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা অত্যন্ত আনন্দ প্রকাশ করেছেন এবং মুসকানের এই বিশ্বজয় যাত্রায় শুভকামনা জানিয়েছেন। মুসকানের এই কৃতিত্বের পেছনে তার বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঠিক দিকনির্দেশনা এবং বাবা-মায়ের অক্লান্ত পরিশ্রম ও অনুপ্রেরণা জড়িয়ে আছে।
আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের লাল-সবুজ পতাকা তুলে ধরার এই গৌরবময় মুহূর্তে মুহাইমীন কামাল মুসকানের বাবা-মা সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন, যেন সে বিশ্বমঞ্চে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ফেনী জেলা ও দেশের জন্য বড় গৌরব বয়ে আনতে পারে।
